৫ আগস্টকে দেশের মানুষ “মুক্তির দিন” হিসেবে দেখে: ড: ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।” বরংদেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দলটির কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

লন্ডনের প্রখ্যাত পররাষ্ট্রনীতিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে এক আলাপচারিতায় এসবকথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটিপরিচালনা করেন চ্যাথাম হাউসেরপরিচালক ব্রনওয়ে ম্যাডক্স।

এক প্রশ্নের উত্তরে ইউনূস বলেন, “আওয়ামী লীগ কি রাজনৈতিকদল? যারা তরুণদের হত্যাকরে, গুম করে, রাষ্ট্রীয়অর্থ চুরি করে—তাদেরকি রাজনৈতিক দল বলা যায়?” তিনি একে “একটি বিতর্ক” হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, “এটি কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”

তিনি জানান, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিনটিকে দেশের মানুষ “মুক্তির দিন” হিসেবে দেখেছে।তবে তিনি অভিযোগ করেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী এখনো বিদেশ থেকে উসকানি দিচ্ছেন, সংঘর্ষের নির্দেশনা দিচ্ছেন।”

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটিরুটিন নির্বাচন নয়, বরং নতুনবাংলাদেশের জন্মের নির্বাচন। আমরা পুরোনো বাংলাদেশকেবিদায় জানাতে চাই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “১৭বছর পর দেশের মানুষসত্যিকারের ভোট দিতে যাচ্ছে।জনগণের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনাকাজ করছে।”

অধ্যাপক ইউনূস জানান, সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যতৈরির কাজ চলছে এবংজুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করাহবে। এ সনদের মাধ্যমেভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণ হবে।

গণভোটের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নে তিনিবলেন, “এটা অর্থহীন হবে, কারণ বেশিরভাগ মানুষ বুঝবে না কীসের জন্যভোট দিচ্ছে। বরং রাজনৈতিক দলগুলোইবিষয়গুলো নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছাক, এটাই বাস্তবসম্মত।”

চ্যাথাম হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ইউনূস জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁরকথা হয়েছে।

তিনি মোদিকে বলেন, “আপনি যদি শেখহাসিনাকে আশ্রয় দেন, সেটা আপনারঅধিকার। কিন্তু দয়া করে তাকেবাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কথা বলার সুযোগদেবেন না।”

প্রধান উপদেষ্টা দাবি করেন, অন্তর্বর্তীসরকারকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, জাপান, এমনকিআইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক সমর্থনজানিয়েছে।

আইএমএফ-এর ডলার ছেড়েদেওয়ার শর্ত পূরণ করারকথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকায় আমরাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

বাংলাদেশে দুর্নীতির একটি উদাহরণ তুলেধরে তিনি বলেন, “আপনারপাসপোর্ট লাগলে অফিসে গিয়েও আপনি পাবেন না, কারণ কেউ না কেউঘুষ ছাড়া তা পৌঁছাবেনা। সিস্টেমটাই দুর্নীতিগ্রস্ত।”

তাই তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্ভিস সেন্টার’ চালু করে এইদুর্নীতির রাশ টানার উদ্যোগনেওয়া হয়েছে।

শেষে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, “আমিবা আমার উপদেষ্টা পরিষদেরকেউ ভবিষ্যতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না।”

তাদের দায়িত্ব কেবল এই রূপান্তরশেষ করা এবং সুষ্ঠুনির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের হাতেক্ষমতা হস্তান্তর।

All Categories