১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে গণভবন হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহিদদের স্মারক ও বিগত সরকারের নিপীড়নের নানা ঘটনাকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রূপান্তরের এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায়। সরকার আগামী ৫ আগস্ট এর উদ্বোধন করতে চায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে জাদুঘরের ‘সিভিল’ এবং ‘ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল (ই/এম)’ অংশ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, জাদুঘরের ই/এম অংশের কাজ বাস্তবায়ন করবে মেসার্স শুভ্রা ট্রেডার্স। এ অংশে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
সিভিল অংশের কাজ করবে দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। এ অংশের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক পরিষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে জাদুঘরটি গড়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জাদুঘর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতি রক্ষা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে। জাদুঘরে থাকবে ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে, দলিলপত্র ও স্মারক সংগ্রহ।
সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাদুঘরটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। একইসঙ্গে এটি হবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরার প্রতীকী কেন্দ্র।